দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়হীন এক প্রতিবন্ধী পরিবারে নবজাতকের জন্মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরিবারটির জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নবজাতককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের বাঘিয়ারকুল দক্ষিণপাড়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চিন্ময় মন্ডলের (৪৮) পরিবারে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিন্ময় মন্ডলের স্ত্রী আরতী মন্ডল (৪০) শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের তিন সন্তান। ৮ বছর বয়সী বড় ছেলে কৃষ্ণ মন্ডলও প্রতিবন্ধী। মেজো ছেলে বিষ্ণু মন্ডলের বয়স ৬ বছর। আর তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া ছোট সন্তানের এখনো নাম রাখা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। নিজস্ব কোনো বসতঘর নেই। ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরটি সামান্য বৃষ্টিতেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ওই ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেই জন্ম নেয় নবজাতকটি। কখনো মন্দিরে, আবার কখনো অন্যের বাড়ি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হয় পরিবারটিকে।
চিন্ময় মন্ডল বলেন, দিনমজুরির কাজ নিয়মিত না থাকায় সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারেন না তিনি। নিজের পক্ষে ঘর তৈরি করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের কাছে তাদের থাকার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।
প্রতিবেশী জয়দীপ হালদার বলেন, পরিবারটির খুবই দুরবস্থা। শিশুটি বৃষ্টির পানিতে ভিজে পৃথিবীতে এসেছে। তাদের একটি স্থায়ী ঘর খুব প্রয়োজন।
আরেক প্রতিবেশী বিনতা মাঝি জানান, পরিবারটির নির্দিষ্ট কোনো থাকার জায়গা বা রান্নাঘর নেই। বৃষ্টি হলে রান্নাও বন্ধ থাকে। অনেক সময় না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তাদের।
পাটগাতী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তুষু ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, পরিবারটির এমন দুরবস্থার কথা তাদের জানা ছিল না। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
এদিকে গণমাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান টুঙ্গিপাড়ার নবনিযুক্ত ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম। তিনি সরেজমিনে পরিবারটির সঙ্গে কথা বলেন এবং নবজাতকের শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি পরিবারটির জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ঘরের সংস্থান করার আশ্বাস দেন।
ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, তিনি নতুন যোগদান করায় পরিবারটির বিষয়টি আগে জানতেন না। টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসেছেন। পরিবারটিকে একটি স্থায়ী ঘর দেওয়া ও পুনর্বাসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এ উদ্যোগে পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা হলে তিন শিশুকে নিয়ে পরিবারটি অন্তত নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে।
এমএস/